গভীর সমুদ্রে ইন্দুরকানীসহ এই অঞ্চলের জেলেদের নৌকায় ভেসে কোনোমতে কাটছে রোজা

তাওসিফ এন আকবরঃ গভীর সমুদ্রে ও সুন্দরবন এলাকায় বা তার আশেপাশে উপকূলীয় জেলাগুলোসহ পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষ,জেলে, খন্ডকালীন বা মৌসুমি মাছ শিকারীদের নৌকায় ভেসে ভেসে কোনোমতে কাটছে রোজা।জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার সাইদখালী,বালিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরাও একইভাবে নৌকায় ভেসে অনেকটা মানবেতরভাবেই কাটছে রোজা।নেই ঈদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তাও।

যেখানে রাত সেখানে কাত-ই যেন সুন্দরবনের বনজীবি ও সাগরের সৎস্যজীবিদের কর্মময় জীবন ধারার বর্ণনা।প্রতি ১৫ দিনের একটি পাশ পারমিটের অনুকূলে সকল বনজীবি ও মৎস্যজীবিরা বনে বা সাগরে প্রবেশ করে।উক্ত পাশ পারমিটের অনুকূলে তাদের খরচ-খরচা উঠাতে গেলে তাদের কোন পার্বন বা উৎসবের কথা খেয়াল থাকেনা।কোন কোন মৎস্যা ও বনজীবিরা বনে বা সাগরে থাকা অবস্থায় আবার তাদের লোক নিয়ে পাশ পারমিট করে আবার বনে বা সাগরে ফিরে যায়। চলতি রমজানে প্রবীণ রোজাদার মৎস্য ও বনজীবিদের বনেই কোনমতে চলছে সেহরী ও নামমাত্র ইফতার।জীবিকার অন্বেষায় অনেকের হয়তো ঈদও কাটবে এখানেই।অনেকটা মানবেতরভাবে নৌকায় বসে রান্না খাওয়ার মাঝেই রোজা পার করতে হচ্ছে তাদের।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনের মধ্যে আঁকা-বাকা নদী, খাল ও তিন নদীর মোহনা রয়েছে সতেরশ’ বর্গকিলোমিটার।দেশের সমগ্র সংরক্ষিত বনভূমির অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫১ শতাংশ বনই হচ্ছে সুন্দরবন। প্রায় ৬ হাজার ১১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বন রয়েছে ।প্রতিবছর জীবিকার সন্ধানে বনজীবিদের মধ্যে বাওয়ালী গোলপাতা সংগ্রহ মৌয়ালদের মধু সংগ্রহ ও মৎস্য ও কাকড়া আহরনের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট সংখ্যক পাশ পারমিট দিয়ে থাকেন।  এছাড়া সাগর নদী গুলোতে মৎস্যা শিকারের রুটগুলো হচ্ছে, বুড়িগোয়ালিনি, কোবাদক থেকে বাটুলা নদী-বল নদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী অতপর দুবলার চর।কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়য়া, শিবসা নদী মরজাত হয়ে দুবলার চর।নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর।ঢাংমারী-চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর। বগী-বলেশ্বর-সুপতি কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর। 

জেলেদের মৎস্যা শিকারের সাগর এলাকায় প্রায় ১৫ টির অধিক চরাঞ্চল রয়েছে সেগুলো হচ্ছে দুবলা,মেহের আলী,আলোরকোল,অফিস কিল্লা,মাঝির কিল্লা,শেলার চর, নারকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছোঠ আমবাড়িয়া, বড় আমবাড়িয়া, কবরখালী, কোকিলমনি,চাপড়াখালী।স্থানীয় জেলেদের মতে, দক্ষিণাঅঞ্চলের সাতক্ষীর,খুলনা,পাইকগাছা, পিরোজপুর, বরগুনা,রামপাল ও মোংলা সহ এর আশ পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু জেলে বাওয়ালী-মৌয়াল নিয়মিত বনজীবিরা বংশ পরিম্পরায় এখানে তাদের জীবিকা আহরণ করে থাকেন। 

এসব খেটে খাওয়া কর্মজীবিদের চলতি রমজানে যেন সবারই যেন তেন ভাবে চলছে রমজানের সিয়াম সাধনা এভাবেই হযতো কাটবে ঈদ।অনেকে গোনের (প্রতি ১৫ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়) মুখে পড়ে হয়তো ঈদে বাড়ি যাওয়া হবেনা আত্নীয়-পরিজন মুখিয়ে থাকবে তার তার বাড়ির একমাত্র কর্মক্ষম মানুষটির সাথে সিয়াম সাধনার সেহরী ও ইফতার করার আশায়।

তথ্য কৃতজ্ঞতা

আইনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *