ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সচেতনতা

আগামী বুধবার বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ/যশ জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

জানা যায়, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি ঝড়ের নাম নির্ধারণ করে থাকে। যেমন ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ এই সংস্থার আটটি দেশ করে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ওমান।

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সচেতনতা এবং পূর্ব প্রস্তুতি। আতঙ্কিত না হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের আগে-পরে এবং ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার সময় কিছু কাজ করা এবং কিছু বর্জন করা উচিত।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগে করণীয়

ফার্স্ট এইড বক্স রেডি করে রাখুন

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। ডায়রিয়া, জ্বরের জন্য ঔষধ স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে রাখুন।

গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ করে রাখুন

বাসা টিনশেড হলে বা নিচ তলায় হলে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস ওয়াটারপ্রুফ বক্সে টেপ এবং পলিথিন পেঁচিয়ে রাখুন।

শুকনো খাবার সংগ্রহ করে রাখুন

নিরাপত্তার জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন লাইন বন্ধ থাকতে পারে। রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে চিড়া, মুড়ি সহ শুকনো খাবার সংগ্রহে রাখুন।

ফুলের টব, নির্মাণ সামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখুন

ফুলের টব নিরাপদ স্থানে রাখুন। খোলা জায়গায় নির্মাণ সামগ্রী রাখবেন না। বাসার পাশে নির্মাণাধীন ভবন থাকলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলো চার্জ দিয়ে রাখুন

পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার লাইট, টর্চ লাইটে চার্জ ফুল রাখুন। এর আগে ঘূর্ণিঝড় আইলার জন্য ১ দিনের বেশি বিদ্যুৎ, গ্যাস, মোবাইল ফোনের সার্ভিস পাওয়া যায়নি। শহরে আছি বলে কিছু হবে না, এমন মনে করা বোকামি। ব্যাকআপ হিসেবে মোমবাতি এবং লাইটার রাখা ভালো। তবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আগুন সব সময়ই লাস্ট অপশন।ফ্লোরে মাল্টিপ্লাগ রাখবেন না।

ইন্টারনেটে পোস্ট দেখে আতঙ্কিত না হওয়া

যেকোনো পেজে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে পোস্ট দেখে আতঙ্কিত না হয়ে টেলিভিশন অথবা এফএম রেডিওতে খবর শুনুন। রেডিও এবং টেলিভিশনে ভেরিফায়েড নিউজ পাবেন। বিপদে শান্ত থেকে সমাধানের চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে করণীয়

১. রাস্তায় থাকলে শপিং মল, মসজিদ, স্কুল বা যেকোনো পাকা ইমারতে আশ্রয় নিন। কোনোভাবেই খোলা আকাশের নিচে থাকা যাবে না।

২. রাস্তায় যানজটে পড়লে গাড়ির পাশে জায়গা রেখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন যেন বিপদের মুহূর্তে দরজা খোলা যায়।

৩. বাড়ির বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের মেইন লাইন বন্ধ করে দিন।

৪. দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন যাতে বাইরে থেকে ময়লা বা ভারী কিছু উড়ে এসে আঘাত করতে না পারে।

৫. টিনশেড বাসা হলে বা নিচু জায়গায় হলে নিরাপদ কোথাও আশ্রয় নিন।

৬. খুব বেশি জরুরিভিত্তিতে না হলে রাস্তায় বের হওয়া নিরাপদ নয়

৭. কোনোভাবেই ট্যাপের পানি সরাসরি খাওয়া যাবে না। ফুটিয়ে বা ভালো ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।

৮. ইন্টারনেট ব্যবহার না করে ফোনে রেডিও শুনতে হবে। ডাটা কানেকশন অন রেখে ফেসবুক স্ক্রল করলে ব্যাটারিও দ্রুত শেষ হবে, নেটওয়ার্কও বেশি ব্যস্ত থাকবে।

৯. কল করে নেটওয়ার্ক বিজি না রেখে এসএমএস ব্যবহার করে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করুন। ডাটা কানেকশন অফ রাখুন।

সর্বোপরি উদার হওয়ার চেষ্টা করুন। বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করার সুযোগ থাকলে সাহায্য করুন। নিজে উপরতলায় থাকলে নিচতলার বসবাসকারীদের দিকে খেয়াল রাখুন। বাসার পাশের টিনশেডের বসবাসকারীদের আশ্রয় দিন।

লেখক
এফ এম বুরহান
শিক্ষার্থী
সরকারি সুন্দরবন কলেজ খুলনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *