জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস অসহায় বিধবা ডালিয়ার

মো: হামীম :

মা, ছেলে ও মেয়ে লইয়া খাইয়া না খাইয়া এই ভাঙ্গা ঘরে খুব কষ্ট কইরা দিন কাডাই। বয়সের ভারে দিন-রাইত আর কাজ করতে পারছিনা, তাই একটা বিধবা ভাতার কার্ড আর একটা ঘরের লাইগ্যা চেয়ারম্যান মেম্বারের দ্বারে দ্বারে যাইয়া কোন কিছুই পাইলাম না। অনেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘর পাইছে। আমাগো এমপি সাবরে কইয়া আপনারা আমারে একটা ঘরের ব্যবস্থা কইরা দ্যান।’

আবেগআপ্লুত ও কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের কাছে এসব কষ্টের কথাগুলো বললেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের বিধবা ডালিয়া বেগম (৪৪)।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বড়গাবুয়া গ্রামের মৃত হামেদ খানের স্ত্রী ডালিয়া দীর্ঘ দিন ধরে স্বামীর রেখে যাওয়া একটি জরাজীর্ণ ঘরে বৃদ্ধ মা, ছেলে ও মেয়ে নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন সন্তানের জননী ডালিয়ার স্বামী ১২ বছর পূর্বে লিভার সমস্যাজনিত রোগে মারা যায়। একমাত্র উপার্জনকারী গত হওয়ায় ডালিয়া নিজেই সংসারের হাল ধরেন। স্বামী বা নিজের রোজগারের অন্য কোন উৎস না থাকায় তিনি দোকান ও বাসা-বাড়িতে পানি টেনে দিয়ে প্রতিদিন ১৫০-২০০ টাকা দিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাতে লাগলেন। মাটি কাটার কাজ বাদ দিয়ে পানির কাজ কাজ শুরু করেন। দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। বড় মেয়ে আকলিমা আক্তারকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়ে ঢাকার এক গার্মেন্টস কর্মীর সাথে বিবাহ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে বড় মেয় স্বামীর সঙ্গে সেখানেই থাকেন। মেজ ছেলে মিজানুর রহমান গোলখালী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট মেয়ে ময়না আক্তার একই মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরটি এখন জরাজীর্ণ ও বাসগৃহের অনুপযোগী। বৃদ্ধ মা রওশানা বেগম (৭৫) ও দুই সন্তান নিয়ে ডালিয়া এখন দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন ওই ঝুপড়ি ঘরে।

গোলখালী ইউপি চেয়ারম্যান মু. নাসির উদ্দিন হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম হাজার অসহায় মানুষ আছে তারা অনেকেই আমাদের কাছে না এসে অভিযোগ করে। ডালিয়া বেগম আমাদের কাছে আবেদন করলে যথাসাধ্য চেষ্টা করব বিধবা ভাতার জন্য। তিনি আরও বলেন, ঘর দেয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার বলেন, ‘ডালিয়া বেগমকে ঘরের জন্য আবেদন করতে বলেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *