ঝালকাঠীতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ পিরোজপুরের এক যুবকের

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী এক সন্তানের জননী।

শুক্রবার (২১ মে) ভোর রাতের দিকের এ ঘটনায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর সার্কেল) শাখাওয়াত হোসেনসহ রাজাপুর থানা পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ৩ বছর পূর্বে একই গ্রামের এক যুবকের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পিতার দেয়া জমিতে দালান (অসম্পূর্ণ) তৈরি করে স্বামীকে নিয়ে বসবাস করছি। দেড় বছর পূর্বে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। শিশুর সাড়ে ৩ মাস বয়সে স্বামী সৌদিতে পাড়ি জমান। এরপর থেকে শিশু সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছি।

দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বিড়ালজুড়ি এলাকার মো. হানিফের পুত্র আলিম (২৬) মোবাইলে উত্যক্ত করতো। বৃহস্পতিবার রাতে ফোন দিয়ে আজেবাজে কথা শুরু করলে ফোন কেটে দিয়ে নম্বরটি ব্ল্যাকলিস্ট করে রাখা হয়। এরপরে রাত আড়াইটার দিকে বাথরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে প্রথমে আলিম প্রবেশ করে পিছনের দরজা খুলে দিলে আরো ৫/৬ জন প্রবেশ করে।

আলিম যৌন নির্যাতন চালালে স্থানীয় মৃত. সেকান্দার আলীর পুত্র খোকন সিকদার (৪৫) ও মৃত. ইসরাইল হাওলাদারের পুত্র শাহ বারেক (৫০) তাতে সাহায্য করে। রশিদ মৌলভীর পুত্র বাবুল সিকদার (৫৫), নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র লিটন (৩২) এবং নৈকাঠির আলতাফ হোসেনের পুত্র মিলন (৩৩) পাহাড়া দেয়।

এ সময় খোকন ও শাহ বারেক কানের দুল ও গলার চেইনসহ সাড়ে ১৩ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ১লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় ডাক চিৎকার দিলে পিছনের দরজা দিয়ে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ভুক্তভোগীর পিতা আঃ করিম সিকদার জানান, মেয়েকে জায়গা দিয়ে ঘর তৈরিতে সহায়তা করায় সেখানেই শিশু সন্তানকে নিয়ে থাকতো। রাতে দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুরাতন বাড়ি থেকে ফেরার পথে খোকন, লিটু ও মাওদুদ হোসেন মনুকে যেতে দেখেছি। তবে তারাই যে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তখন তা বুঝতে পারিনি।

স্থানীয় রাজা সিকদার জানান, রাতে চিৎকার শুনে বের হলে আলিম, খোকন, শাহ বারেক, বাবুল, লিটু ও মিলনকে দৌঁড়ে পালাতে দেখি। ভোররাতে হালকা আলোতে দেখে সবাইকেই চিনতে পেরেছি।

রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ চন্দ্র মন্ডল জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুরো ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমের স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কৃতজ্ঞতা

মানবকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *