পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু শিরোনাম বন্ধ হবে কবে..?

এফ এম বুরহানঃ

প্রায় খবরে পাওয়া যায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু। বর্ষাকালে পানিতে চারিদিকের ডোবা নালা খাল বিল পুকুর থৈথৈ করে । গ্রামগঞ্জের মানুষের শিক্ষার হার কম থাকায় তাদের সচেতনতা ও কম ।
সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত মা যখন রান্না, কাপড় ধোয়া, পরিবারের কাজে ব্যস্ত থাকেন তখন বাড়ির পাশের পুকুর, খালে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হারে বাংলাদেশ অন্যতম।
দ্য সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশে (সিআইপিআরবি) এবং আইসিডিডিআর’বি- এর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০টি শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। যাদের ৩০ জনেরই বয়স পাঁচ বছরের কম।
এছাড়া দৈনিক ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী দেশে পানিতে ডুবে প্রতিবছর শিশুর মৃত্যু হয় ১৯ হাজার।
আবার গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর নামে একটি এনজিওর গবেষণা অনুযায়ী বিবিসির রিপোর্টে দেখা যায় বাংলাদেশে গত ১৯ মাসে ১,৫১২ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন ।
এদের মধ্যে ১,৩৩২ জন পানিতে পড়ে মারা গেছেন। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন নৌযান দুর্ঘটনায়।
দু’হাজার বিশ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২৩শে জুলাই পর্যন্ত সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরেছে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর নামে একটি এনজিও।

পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলায়। সেখানে প্রায় ৬৩ জনের মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বর্ষা এলেই এই দুর্ঘটনার হার বেড়ে যায়।

এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ওই অঞ্চলে প্রলম্বিত বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণেই এতো পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসির তথ্য মতে গত ১৯ মাসে যারা পানিতে ডুবে মারা গেছেন তাদের ৭০ শতাংশই শিশু।

বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যুহার কমাতে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকে এসডিজির অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সেখানে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ গুরুত্ব পায়নি। যার ফলে অসুস্থতাজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর হার কমে গেলেও, পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার আগের মতোই আছে।

গত এপ্রিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুকে নীরব মহামারি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ।

পানিতে ডুবে এই মৃত্যু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদফতর চার বছর আগে একটি জাতীয় কৌশলের খসড়া করলেও দুঃখের বিষয় হচ্ছে সেটি আজও চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকা নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবা-পুকুরে বেষ্টিত হওয়ায়, শিশুরা অসাবধানতায় এসব জলাশয়ে ডুবে যায়।

ছোট বড় সবার ক্ষেত্রেই পানিতে ডুবে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় সাঁতার না জানা , পানিতে ডুবে মৃত্যু ঠেকাতে জলাশয়ের আশেপাশে বেড়া দেয়ার পাশাপাশি শিশুদের বাধ্যতামূলক সাঁতার শেখানোর ওপর সরকারি ভাবে জোর দেওয়া দরকার।

শিশুকে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখলে এ দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *