পিরোজপুরের ভীমনলী গণহত্যার ৫০ বছর আজ,মেলেনি স্বীকৃতি

মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত ভীমনলী গ্রামের নিভৃত জনপদের মুক্তিকামী বাঙালির বীরত্বের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় ধরে যেন জনশ্রুতি হিসেবেই টিকে আছে। তাই অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে ১৫ শহীদের গণকবর। রাষ্ট্র কিংবা সমাজ কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এ সকল বীরের নামও লিপিবদ্ধ হয়নি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা বিনাশ করতে দেশজুড়ে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত করে। পরবর্তী ৯ মাসে তাদের বাঙালি নিধন অব্যাহত থাকে। এসব গণহত্যায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে বলা হলেও এই সংখ্যা আরও বেশি। এখন পর্যন্ত দেশে পাঁচ হাজার বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক হাজার বধ্যভূমি চিহ্নিত হয়েছে। ২২ মে সংঘটিত হয় পিরোজপুরে ভীমনলী গণহত্যা।


মুক্তিসংগ্রামের ৫০ বছর পরেও ওই সকল বীর শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্র যেমন স্বীকৃতি দেয়নি, তেমনি এ মুক্তি সংগ্রামের বীরত্ব গাঁথা ইতিহাসে অজানা অধ্যায় হিসেবেই রয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের অর্ধসহস্রাধিক রাজাকার আলবদর ও রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলে। তারা এলাকায় হিন্দুদের ঘরবাড়ি লুটতরাজ, গণহত্যা ও নারী নির্যাতন চালায়।

এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত ও হিন্দুদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ভীমনলী গ্রামের বাড়ইবাড়ি রাজাকারদের বিশেষ টার্গেটে পরিণত হয়। রাজাকারকারা পরিকল্পিতভাবে ১৯৭১ সালের মে মাসে বাড়ইবাড়িতে আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধারাও সেদিন রাজাকারদের পাল্টা আক্রমণ করে প্রতিহতের চেষ্টা করে। সেদিনের সেই সম্মুখযুদ্ধে রাজাকার লালু খাঁ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হয়। আর রাজাকারদের গুলিতে শহীদ হন ১৫ জন মুক্তিকামী বীর বাঙালি।


মঠবাড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার মো. বাচ্চু মিয়া আকন বলেন, মঠবাড়িয়ায় স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে যতগুলো সম্মুখযুদ্ধ হয়েছে তার মধ্যে নলী গ্রামের বাড়ইবাড়ির যুদ্ধ অন্যতম। কিন্তু ইতিহাসে ওই বীরত্ব আজও অস্বীকৃত রয়ে গেছে। সকল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের কাছে বাড়ইবাড়ির শহীদদের যথাযথ স্বীকৃতি দেয়ার দাবি করছি।

কৃতজ্ঞতা

দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *