বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ, শিশু-কিশোরদের ভিড় খানজাহান মাজারে

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বাগেরহাটে বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোর-তরুণরা ভিড় করেছেন ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী মাজারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঘরের একঘেঁয়ে অবস্থা থেকে একটু মুক্তি পেতে তারা মাজারের মুক্ত পরিবেশে ছুটে আসেন। ঈদের দিন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে পেরে তারা আনন্দিত। 

বুধবার ঈদের দিন খানজাহান আলী মাজারে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন সদর উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের স্কুলছাত্র রাসেল শেখ।

রাসেল শেখসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। তারা ঘরবন্দি হয়ে থাকেন, বের হতে পারেন না।

রাসেল বলেন, “ ঈদের দিনের বন্ধুরা মিলে ঘুরতে বের হয়েছি। প্রথমে ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে গেলে সেখানে ঢুকতে দেয়নি। তাই খানজাহান আলী মাজারে এসেছি। এখন দেশের যে পরিস্থিতি তাতে ঘরের থেকে বের হওয়া ঠিক না; তারপরেও কত সময় আর ঘরবন্দি হয়ে থাকা যায়।”

বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের শিক্ষার্র্থী মাহমুদুর রহমান বলেন, “করোনায় আমরা ভালো আছি; তবে আগের মতো আর আড্ডা, চলাফেরা হচ্ছে না। সবাই একটু দূরে দূরে; বন্ধুদের সাথে নিয়মিত দেখা করা যায় না। এজন্য একটু খারাপ আছি। ঈদের দিনে মাজারে আসলাম অনেকদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি।”

আরেক শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, “প্রতি বছর ঈদ এলে আমাদের একটা ট্যুর থাকে। ঈদের তিন দিনই আমরা ঘোরাঘুরির মধ্যে থাকি। মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে থাকি, খাওয়া দাওয়া করি, আড্ডা দেই। এবারের যে করোনা পরিস্থিতি তাতে বাইরে যাওয়া তো দূরে থাক বাড়ির থেকে বের হতেই ভয় লাগে।”

সবকিছুই ঠিকঠাক চললেও লিখাপড়ার স্থবির অবস্থা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

“পড়ালেখার যে কী হলো! সরকার গণপরিবহন চালাচ্ছে; কিন্তু আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিচ্ছে না।”

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করার কারণে সরকার দেশের সব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করে। তার ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট শহরে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদসহ সরকারি বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিনোদন কেন্দ্রে বন্ধ থাকার কারণে ঈদের দিনে শিশু কিশোররাসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষজন উন্মুক্ত হযরত খানজাহান মাজারে ভিড় করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *