শরণখোলায় মহড়ার পর হামলা দোকান ভাংচুর টাকা ও দোকান লুট!

বাগেরহাটের শরনখোলায় এক মেম্বার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচারন বিধি লংঘন করে মটর সাইকেল মহড়া দিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের ভয়ভিতী দেখানোর পাশাপাশি চার জনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় হামলাকারী দলের সদস্যরা একটি দোকানে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা সহ মুল্যবান মালাপত্র লুটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. নুরু তালুকদার। ঘটনাটি ঘটেছে,৩১মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলার ৩নং-রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর এলাকায় ।

আহতদের মধ্যে ব্যবসায়ী মো. নুরু তালুকদার সহ তিনজনকে একই দিন দুপুরে শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্যে ভর্তি করা হয়েছে ।

স্থানীয় সুত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল অনুমান নয়টার দিকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনের জন্য রায়েন্দা ইউনিয়নের ১নং-উত্তর রাজাপুর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ও সাবেক কুয়েত প্রবাসী মো. মনির হোসেন হেলাল সর্দার ২০টি মটর সাইকেল সহ অর্ধশত নেতাকর্মীদের নিয়ে এক নির্বাচনী মহড়া শুরু করেন।

কিছু সময় পর ওই ওয়ার্ডের ভোটার ও জীবনদুয়ারী এলাকার বাসিন্দা এবং হেলালের প্রতিদন্ধী প্রার্থী মো. জাকির হোসেন খাঁনের কর্মী মো. দুলাল বয়াতী (৩০), মো. আবু জাফর বয়াতী (৪০) এবং মো. জসীম উদ্দিন হাওলাদার নামের তিন ব্যাক্তির উপর প্রার্থী হেলালের নেতৃত্তে অর্তর্কিত হামলা চালায় তার নেতা কর্মীরা।

পরে, একই ভাবে উল্টার পাড় এলাকার ব্যবসায়ী প্রার্থী জাকির খানের কর্মী মো. নুরু তালুকদারের উপর হামলা চালায় হেলালের সহযোগী মো.স্বপন মীর . মোস্তফা গাজী .রাসেল সর্দার . ছলেমান বয়াতী . মুক্তা মীর . কামরুল মীর . শফিকুল ইষলাম . বেলায়েত মিস্ত্রী . জালাল খান . শাহিন রহিম সর্দার জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও সরোয়ার চাপরাশী সহ ১৮/২০ জনের একটি দল।

এ সময় হামলা কারীরা নুরুর দোকানটি লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে ভাংচুর করে এবং নগদ আশি হাজার টাকা সহ দোকানের মুল্যবান মাল পত্র লুটে নেয়।

এছাড়া প্রার্থী হেলালকে ভোট না দিয়ে এলাকা ছাড়তে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যাবসায়ী নুরু তালুকদার।
এ ব্যাপারে হেলালের প্রতিদন্ধী মেম্বার প্রার্থী মো. জাকির হোসেন খান বলেন, নির্বাচনের আগে আমার কর্মী সমর্থক সহ সাধারন ভোটারদের মধ্যে ভিতী ছড়ানোর উদ্দেশ্যে হেলাল পরিকল্পিত ভাবে এ ন্যাক্কার জনক হামলা চালিয়েছেন।

তিনি আমার জনপ্রিয়তায় ইশান্নিত হয়ে পরাজয়ের ভয়ে এখন পাগলামী শুরু করেছেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলা করে ফাঁয়দা লুটতে চাইছেন। বিষয়টি আমি শরনখোলা থানা পুলিশ সহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচনী আচারন বিধি লংঘনের অভিযোগে রায়েন্দা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের এবং সাউথখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দুই মেম্বার প্রার্থীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক করেন শরনখোলা থানা পুলিশ।

কয়েক ঘন্টা আটক থাকার পর এক পর্যায়ে মুসলেকা দিয়ে মুক্তি পান তারা। তবে . এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেম্বার প্রার্থী মো. মনির হোসেন হেলাল সর্দার দাবী করেন. আমরা মটর সাইকেল নিয়ে মহড়ায় নামলে নেতা কর্মীদের সামনে জাকির খানের কর্মীরা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আজমল হোসেন মুক্তা ভাইয়ের নামে বিরুপ মন্তব্য করেন।

এ কারনে আমার কয়েকজন কর্মী তাদেরকে ২/৪টি চর-থাপ্পর দিয়েছে। তবে. আমি ওই সময় এলাকায় ছিলাম না। খুব সকালে আমি এবং ওয়ার্ড সভাপতি আ. ছাত্তার বয়াতী মুক্তা ভাইয়ের বাসায় এসেছি , বর্তমানে তার কাছেই আছি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অঞ্জন সরকার বলেন. এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া শরনখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো .সাইদুর রহমান জানান. খবর শুনে তাৎক্ষনিক ওই এলাকায় পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে । এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ পেলে বিধিগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *