ইন্দুরকানীতে কুরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা,খরচ উঠবেকি?

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির আগে লকডাউন শুরু হতে যাওয়ায় কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইন্দুরকানীসহ পিরোজপুর জেলার কয়েক হাজার খামার মালিক। সারা বছর খামারে পরিশ্রম ও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করার পর এখন পশুর বাজার ও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রায় লক্ষাধিক কুরবানির পশু প্রস্তত করা হয়েছে স্পমগ্র জেলায়।তবে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এবার এখনও খামারে আসছেন না ব্যবসায়ীরা। হাট বসতেও শুরু করেনি। এ অবস্থায় ভালো দামে পশু বিক্রি করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে খামারি ও কৃষকরা।

 স্থানীয় খামারি ওহিদুল ইসলাম জানা,গত বছরের নভেম্বর শেষের দিকে তিনটি বলদ গরু টাকায় কিনে বাসায় লালন পালন করছি। প্রতি বছর কুরবানির সময় গরু বিক্রির আয়ের টাকায় বছরের ৬-৭ মাস ভালোই চলে যায়। কিন্ত এবার করোনায় সারাদেশের ন্যায় এখানেও যথেষ্ট প্রভাব পড়েছে। সংক্রমণ বাড়ায় মহাজনেরা এখনও খামারিদের কাছে আসেনি। হাট বসতেও শুরু করেনি। একারণে কুরবানির পশুর চাহিদা কম মনে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভালো দামের আশা করা যাচ্ছে না। এবার গরুর খাওয়া খরচের টাকাই উঠবে কিনা, তা নিয়েই যত চিন্তা। 

জানান, আমরা গরু বর্গা নিয়ে লালন পালন করে থাকি। আমাদের মতো শতশত বর্গাদার এবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কারণ করোনার জন্য আয় উপার্জন না থাকায় কুরবানি দেওয়ার সংখ্যা কমে আসতে পারে। আর এতে কুরবানির পশুও কম বিক্রি হবে বলে মনে হয়।

আর এক খামারি বলেন, দিন যতই যাচ্ছে খড়, ঘাস, ভূষি ও চালের কুড়ার দাম বেড়ে যাচ্ছে। লাভতো দূরের কথা, আসল টাকা উঠবে কিনা জানি না। বিক্রির টাকা দুইভাগ হবে। মালিক একভাগ আমার একভাগ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, গরু পালন লাভজনক হওয়ায় উপজেলাতে দিন দিন গরুর খামার বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহামারি করোনার কারনে গরু বিক্রি নিয়ে খামারীরা কিছুটা চিন্তায় আছেন। তবে আমি বিশ্বাস করি শেষ পর্যন্ত খামারিরা তাদের পশু সঠিক দামেই বিক্রি করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *