জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলনে উপকূলে সংকট সমাধানে প্রয়োজন সুপেয় পানি সহ টেকসই বেড়িবাঁধের দাবী।

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর সহযোগিতায় বাগেরহাট জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবী জানান।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম এর সভাপতি এ্যাড. শরিফা খানম, আরও উপস্তিত ছিলেন বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নীহার রঞ্জন সাহা, সহ-সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মূখার্জী রবীন্দ্র নাথ, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এ বাকী তালুকদার, ফোরামের সাধারন সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান শেখ, সদস্য নূর আলম শেখ, এ্যাড. লুনা সিদ্দিকী প্রমুখ।

মোঃ আসাদুজ্জামান শেখ এর সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে জনজীবনে সংকট প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সুপার সাইক্লোন আম্ফান ও ইয়াসের আঘাত সংকট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

খুলনা বিভাগজুড়ে মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত। বাগেরহাটে বসবাসরত উপকূলীয় জনগোষ্টি তাদের প্রত্যক্ষ ক্ষতির পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদে সুপেয় পানির সংকট অত্যন্ত তীব্র। ফলে নারী স্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশী নাজুক অবস্থায় রয়েছে। লবাণাক্ততা বৃদ্ধি এ অঞ্চলের বসবাসকারীদের উচ্চ রক্তচাপ ও গর্ভবতী মায়েদের প্রি-একলেম্পশিয়ার হার ৬.৮%। এই সংকট আগামী দিনে আরো বাড়বে।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় ১৭,০০০ কি.মি বেড়িবাঁধের ৫,৭০০ কি.মি. বাঁধ দূর্বল থাকায় সামুদ্রিক জ্বলোচ্ছাস এলাকায় লবন পানির অনুপ্রবেশ ঘটায়। এ ছাড়াও সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৩০ টার অধিক স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন যা সামান্য উচ্চ জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে।

এই উদ্ভূত জলবায়ু সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে জরুরী সাড়াদানে উপকূলবাসীর পক্ষ থেকে সুপেয় পানি সংকট নিরসন ও টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মানের দাবি জানাচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বা উদ্ভূত সংকটের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের অনেক কিছু করার রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তাদের দাবীসমুহঃ

১. টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান, উপকূলীয় বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরী তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

২. উপকূলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

৩. জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্ব জলবায়ু তহবিল থেকে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার সর্বোচ্চ ব্যবহারে নিশ্চিত করতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৪. সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *