জাতিসংঘের সাবেক ফেলো, রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা, যুক্তরাজ্যে প্রফেসর; ইন্দুরকানীর ড. মনিরুজ্জামান

তাওসিফ এন আকবর– যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ পোর্টসমাউথ ল’ স্কুল, আন্তর্জাতিক এবং ব্যবসায়িক আইনের সিনিয়র চেয়ার প্রফেসর (২০০৪ থেকে অদ্যাবধি); আন্তর্জাতিক সালিশকারী, মধ্যস্থতাকারী, আইন উপদেষ্টা ও অধ্যাপক, পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর ড: এ এফ এম মনিরুজ্জামান। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মানিক বিশেষ উপদেষ্টা (সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত বিষয়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন (১৯৯৬-২০০১)। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী (১৯৮৩ সাল থেকে) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন প্রভাষক। এছাড়াও তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে আইনের অনারারি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজার এবং অ্যাডজান্ট প্রফেসর। জেনেভায় জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের তিনি এক সাবেক ফেলো এবং কাজ করেছেন লন্ডনের কমনওয়েলথ সদর দপ্তরের কমনওয়েলথ সচিবালযয়ে একজন আন্তর্জাতিক আইন উপদেষ্টা হিসেবে।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এল.এল.বি (অনার্স) এবং এল.এল.এম পড়াশোনা করেছেন এবং উভয় ডিগ্রীতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এল,এল,বি (অনার্স) কোর্স চালু হওয়ার অনেক পরে প্রথম বার ঐ কোর্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের ইতিহাসে আইন গ্রাডুয়েশন ডিগ্রীতে রেকর্ড ভঙ্গকারী নম্বর প্রাপ্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তারপর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামুলক অস্ট্রেলিয়ান সরকারের বৃত্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ANU) পাবলিক আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন গ্র্যাজুয়েট স্কলার হিসেবে এবং সেখানে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রী ডিস্টিংকশন নিয়ে অর্জন করেন। এক্সিকিউটিভ এডুকেশন সম্পন্ন করেছেন Harvard Law School এ – মিডিয়েশন এন্ড নেগোসিয়েশন বিষয়ে। এছাড়াও নেদারল্যান্ডের The Hague Academy of International Law থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইনে পিএইচডি লাভ করেছেন। লন্ডনের Chartered Institute of Arbitrators থেকে সালিশী ও মধ্যস্থতা বিষয়েও সনদপ্রাপ্ত হন। ড. মনিরুজ্জামান কেমব্রিজের ডারউইন কলেজে কেমব্রিজ কমনওয়েলথ ট্রাস্ট রিসার্চ স্কলার ও ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সেন্টারে তিনি একজন ভিজিটিং স্কলার ছিলেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালযয়ের সেন্ট জনস কলেজেও কাজ করেছেন ভিজিটিং ফেলো হিসেবে।

তিনি ভিজিটিং প্রফেসরিয়াল ফেলো হিসেবে আরো কাজ করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের Lauterpacht সেন্টারে । তিনি হেগ একাডেমি অফ ইন্টারন্যাশনাল ল’ এ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ইন্টারন্যাশনাল ল’ এর, প্রাক্তন একাডেমী স্কলার এবং রিসার্চ ফেলো। সেন্টার অফ এনার্জি, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল ল’ অ্যান্ড পলিসি (CEPMLP) ইউনিভার্সিটি অফ ড্যান্ডি, স্কটল্যান্ড এর একজন অনারারি প্রফেসরিয়াল ফেলো (২০০৫ থেকে অদ্যাবধি) এবং লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে (QMW)) স্কুল অফ ল’র ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ছিলেন।

উল্লেখ্য, ড: মনিরুজ্জামান যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত থাকাকালীন ২০০৪ সনে পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে সেখনে আইনের “ফাউন্ডিং প্রফেসর” হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে একটি পুর্নঙ্গ আইন বিভাগ গড়ে তোলার দাযিত্ব পান যা ২০০৮ সনে চালু হয়। তিনি সেখানে আইনে গবেষণা এবং স্নাতকোত্তর গবেষণা ডিগ্রীর পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এক দশক যাবত (২০০৪-২০১৪)। পিকিং ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ ট্রান্সন্যাশনাল ল’ এর আইনের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত একজন মধ্যস্থতাকারী ও সমঝোতাকারী (হার্ভার্ড ল’ স্কুল – নেগোসিয়েশন প্রোগ্রাম) হিসেবে সনদধারী এবং কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক আইনের প্রাক্তন ভিজিটিং প্রফেসর। তিনি যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আইনের লেকচারার ও সিনিয়র লেকচারার এবং চায়না ইউনিভার্সিটি অফ পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ল’, বেইজিং এর আন্তর্জাতিক আইন অনুষদের প্রাক্তন ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন।

এছাড়াও তিনি সারা বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি (লন্ডন) এর পক্ষে অধ্যাপক নিয়োগের জন্য মূল্যায়নকারী ও পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০টিরও বেশি পিএইচডি থিসিস এর ত্বত্তাবধায়াক (সফলভাবে সম্পর্নকরণ) ও পরীক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একজন আন্তর্জাতিক সালিশকারী ও ব্যবসায়ীক আইনের পরামর্শক এবং লন্ডনের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অফ আরবিট্রেটরস এর সদস্য, ইনস্টিটিউট অফ ট্রান্সন্যাশনাল আরবিট্রেশন (ITA), আমেরিকা এর একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য (২০০৯ থেকে অদ্যাবধি), আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিসি, লন্ডনের এর ইন্টারন্যাশনাল ল এসোসিয়েশন আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য (১৯৯৬ থেকে অদ্যাবধি), প্যারিসের ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন ইনস্টিটিউট (IAI) এর সদস্য (২০০৮ থেকে অদ্যাবধি) এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্সের ওয়ার্ল্ড বিজনেস ল’ ইনস্টিটিউট প্রাক্তন কাউন্সিল সদস্য (২০০৭-২০১৫)। দ্য হেগের ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর কমার্শিয়াল আরবিট্রেশন (ICCA) সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি লন্ডনের আইডিআর গ্রুপ (আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি বিশেষজ্ঞ) এর একজন প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য (২০০৮ থেকে অদ্যাবধি) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক সেন্টার ফর রিকনসিলিয়েশন অ্যান্ড আরবিট্রেশন (IICRA) এর একজন অনারারি ফেলো (২০১৮ থেকে অদ্যাবধি)। তিনি ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অবস্থিত ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ আরবিট্রেশনের সদস্য ও সুইস আরবিট্রেশন অ্যাসোসিয়েশন সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি এনার্জি চার্টার সেক্রেটারিয়েট, ব্রাসেলসের রিসার্চ ফেলো (সিনিয়র) ছিলেন এবং বর্তমানে এনার্জি চার্টার সেক্রেটারিয়েট, ব্রাসেলস এর আইনী উপদেষ্টা টাস্ক ফোর্সের এক্সপার্ট সদস্য হিসেবে কাজ করছেন (২০১৪ থেকে অদ্যাবধি)। তিনি তুরস্কের আঙ্কারায় অবস্থিত, আন্তর্জাতিক বোর্ড অফ দ্য এনার্জি ডিসপিউটস আরবিট্রেশন সেন্টারের (EDAC) বর্তমান সদস্য এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম নেগোসিয়েটরস (AIPN) এর (হিউস্টন, আমেরিকা) সাবেক সদস্য।

আই.ইউ.সি.এন (IUCN) ওয়ার্ল্ড কমিশন অন এনভায়রনমেন্টাল ল’ এবং এর স্পেশালিস্ট গ্রুপ: ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েটল্যান্ডস, এনভায়রনমেন্টাল ল’স অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস, এবং এনার্জি ল’ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ এর সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিজের দ্যুতি ছড়িয়েছেন। আইনী উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন, কমনওয়েলথ সচিবালয় – কমনওয়েলথ সদর দপ্তরে এবং এবং তিনি ছিলেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের ফেলো। ইউনেস্কো-মদনজিৎ সিং সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস স্টাডিজ (ইউ.এম.এস.এ.আই.এল.এস) ঢাকা এর একাডেমিক কাউন্সিলের সাবেক সদস্য। সেন্টার ফর ব্লু গভর্ন্যান্স, সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ রিসার্চ এবং সেন্টার ফর ইনোভেটিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স (সিআইএসএফ) এর বর্তমান সদস্য।

ডঃ মনিরুজ্জামান বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী (১৯৮৩ সাল থেকে), এবং আন্তৰ্জাতিক ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা সালিশকারী এবং বহু মিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক সালিশে (কতিপয় হাই-প্রোফাইল ICSID, ICC, IICRA, মামলা পরিচালনাসহ ) বিশেষজ্ঞ বা পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। বহু সরকার, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কর্পোরেশন এবং বহুজাতিক ল ফার্মের (ম্যাজিক সার্কেল সহ) আন্তর্জাতিক আইনী পরামর্শদাতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মানিক বিশেষ উপদেষ্টা (সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত বিষয়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (১৯৯৬-২০০১)।

তিনি শতাধিক আন্তৰ্জাতিক উচ্চমানের গবেষণামূলক বই, প্রবন্ধ ও মতামত লিখেছেন যা ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিশ্ব আইনজ্ঞ সমাজে সমাদৃত ও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর ও পিএইচডি ডিগ্রী পর্যায়ে পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক আইন, আন্তর্জাতিক শক্তি, তেল ও গ্যাস আইন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আইন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে লেখালেখি করেছেন। তাছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আইনী সাময়িকী (MJIEL, OGEL, TDM, CEJISS) এর একজন সম্পাদক অথবা আন্তর্জাতিক সম্পাদকীয় বা উপদেষ্টা বোর্ডে সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

তিনি International Sustainable Development Law (UNESCO-EOLSS, Oxford, 2010) শিরোনামের একটি ইউনেস্কো স্পনসরড মাল্টি ভলিউম স্টাডির প্রধান সম্পাদক। পিয়ার রিভিউ করেছেন অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের। এছাড়াও ই. এস. আর. সি (যুক্তরাজ্য), পোলিশ ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার (নারোডো সেন্ট্রা নাউকি), ক্রাকো ও ইজরায়েল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, জেরুজালেমের পক্ষে উচ্চ-মূল্যের গবেষণা তহবিল বিডের একজন বিশেষজ্ঞ পর্যালোচক ও বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি তার আন্তৰ্জাতিক সুখ্যাতির জন্যে আমেরিকার মারকুইস সিরিজের WHO’S WHO IN THE WORLD প্রকাশনা-২০১২ [২৯ তম সংস্করণ], THE DICTIONARY OF INTERNATIONAL BIOGRAPHY – ২০১২ (৩৭ তম সংস্করণ, কেমব্রিজ) এবং WHO’S WHO IN PUBLIC INTERNATIONAL LAW (ব্রিল, ২০১২) এ তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যসহ (শুধু ৩০ বছরই সেখানে) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাকালীন সময়ে তিনি বহু মেধাবী ছাত্রের জীবন-প্রদীপ জ্বালাতে ও ভবিষ্যতে আরো উজ্জ্বল হওয়ার অনুপ্রেরনা জুগিয়েছেন একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে। তার অনেক ছাত্র আজ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রফেসর ও ডীন, মন্ত্রী, ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি, ও এডভোকেট ইত্যাদি হিসেবে তারা তাদের বর্তমান স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে রয়েছেন উজ্জ্বল তারকা হয়ে।

ডঃ মনিরুজ্জামান ইন্দুরকানী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মেহেউদ্দিন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র (ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত)। তিনি গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে সৰ্বদা স্বরণ করেন তার শিক্ষার পিছনে তার বাবার নির্মিত এই স্কুলের অশেষ অবদানের কথা। তিনি আরো গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা চিত্তে স্বরণ করেন তার সেকালের এই স্কুলের শিক্ষকদের অবারিত ভালোবাসা, উপদেশ ও শাসন যা তার চারিত্রিক দৃঢ়তা ও কঠোর পরিশ্রমী হতে এবং অনাগত ভবিষ্যত পথ চলায় উৎসাহিত করেছিল। তার প্রথম জীবনের শিক্ষকদের কয়েক জনের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য তারা হলেন আব্দুল আজিজ (উমেদপুর), আব্দুর রউফ হাওলাদার, আশ্রাব আলী হাওলাদার, আবুল হোসেন (আবু মিয়া), ও মৌলভী আব্দুর রশীদ, প্রমুখ। তারা আজ সকলে নাফেরার দেশে চলে গিয়েছেন তবে তাদের স্মৃতি তার কাছে চির অম্লান রয়েছে।

তিনি ইন্দুরকানীর এককালের স্বনামধন্য ও জনপ্রিয় জননেতা মরহুম ফজলুক হক তালুকদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র, যিনি আজীবন তার এলাকার উন্নতি, আলোকিত সমাজ গঠন, শিক্ষার সম্প্রসারনের জন্য এবং সমাজের গরীব, সহায়হীন, মেহনতী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বন্ধু হিসেবে সমাজ সেবকের ভূমিকায় অসামান্য অবদান রেখে গিয়েছেন । যা আজো এলাকার মানুষ (যারা তাকে দেখেছেন তারা অশ্ৰুসজল চোখে) স্বরণ করেন। তার তিরোধানের পর ইন্দুরকানীর আপামর জনগন তাদের প্রাণপ্রিয় নেতার স্মৃতির স্বরণে ইন্দুরকানী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মেহেউদ্দিন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখস্থ খেলার মাঠটি “শহীদ ফজলুল হক ময়দান” নামকরণ করেন এবং আজও পাঁচ দশক ধরে এই নামে মাঠটি তার স্মৃতিকে তাদের সকলের মনের মণিকোঠায় ধরে রেখেছে।

পিতার সমাজ সংস্কারের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়ে ডঃ মনিরুজ্জামান তার পরিকল্পনার কথাও জানান। মরহুম ফজলুল হক তালুকদারের জীবদ্দশায় সমাজে শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সমাজের প্রতিরন্দ্রে শান্তি ও সৌহার্দ বজায়ের লক্ষ্যে বিবাদ ও বিরোধ নিষ্পত্তির নির্ঝ ঞ্জাট ও সাহজলোভ্য উপায় উদ্ভাবনের নিমিত্তে গবেষনাকে উৎসাহিত করার জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে “ফজলুল হক মেমোরিয়াল রিসার্চ ফেলোশিপ” নামে একটি গবেষনা পদ থাকবে এবং স্বতন্ত্রভাবে “শহীদ ফজলুল হক সালিশী ও বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র” নামে আন্তৰ্জাতিক মানের একটি গবেষনা এবং প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান হবে যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে। ডঃ মনিরুজ্জামান উক্ত প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী পরিচালক থাকবেন এবং সহকারী থাকবেন তার ছোটভাই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট মোঃ আখতারুজ্জান তালুকদার । এছাড়াও জাতীয় ও আন্তৰ্জাতিক খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞদেরকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে।

সর্বোপরি, অত্র প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক থাকছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি “বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ।” প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, তিনি প্রফেসর ডঃ মনিরুজ্জামানের শশুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *