তাওসিফ এন আকবর
আজ ১৫ নভেম্বর। ১৪ বছর আগে ২০০৭ সালের এই দিনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হেনেছিলো সুপার সাইক্লোন সিডর। কেড়ে নিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ ও পশু-পাখির প্রাণ। নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলের জমি, ক্ষতি হয়েছে গাছপালার। বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। মৃত্যু ভাসিয়ে নিয়েছে আপনজনদের। সিডরের ১৪ বছর পরও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি উপকূলবাসী। স্বাভাবিক হয়নি পিরোজপুরসহ সিডর বিধ্বস্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা।সরকারি হিসেব অনুযায়ী সিডরে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৬ জন, নিখোঁজ ১ হাজার ৩ জন ও মারাত্মক আহত ৫৫ হাজার। সিডরে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায়ও ব্যাপক ক্ষয়সাধন হয়েছে।সরকারি হিসেব অনুযায়ী মৃত্যুবরণ করেছিল ৬৩ জন এবং নিখোঁজ হন অনেকে।এছাড়াও পশুপাখি, আবাদি জমি,বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও পুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।সমগ্র উপজেলায় অন্তত ২০/২৫ টি পুল ও ব্রীজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।উপজেলার মধ্য ইন্দুরকানীর ব্যস্ততম এলাকা আউরাপুল ও সেউতিবাড়িয়ার সংযোগ পুলটি সিডরের আঘাতে ভেঙে যায়।যেই পুলকে কেন্দ্র করে জায়গাটির নাম প্রতিষ্ঠিত হয় “আউরাপুল” নামে সেই পুলটির আজ অস্তিত্বও নেই।১৪ বছর পরেও সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ হয়নি।স্থান পরিবর্তন করে একটি ঝুকিপূর্ণ সাঁকোর মাধ্যমে চলাচল করছে সেউতিবাড়িয়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।যদিও সম্প্রতি উপজেলার কলেজ মোড় থেকে একটি পাকা সড়ক তৈরি হচ্ছে তবুও আমতলা-সেউতিবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দাদের সহজেই আউরাপুল হয়ে ঘোষেরহাট যাওয়া কিংবা “আউরাপুল” স্থানের নামের কারণে পুলটির অভাব অনুভূত হবে আরও অন্তত একযুগ।এমনটাই দাবি করছেন স্থানীয়রা।
