তাওসিফ এন আকবর
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার মধ্য ইন্দুরকানীর বাসিন্দা ছলেমান গাজী। অসম্ভব প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছলেমান এখন হুইলচেয়ার বন্দি। মধ্য ইন্দুরকানী সহ এতদঞ্চলের গেরস্তের বিভিন্ন কাজে সবার আগে যে ছুটে আসতো সেই ছলেমান এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না পর্যন্ত।বছর দুয়েক আগে একটি দুর্ঘটনায় গাছ থেকে পড়ে গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন তিনি।
অভাবের সংসারে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি অপারেশন করা গেলেও উচ্চমানের চিকিৎসা না হওয়ায় পা দুটোতে আর কখনোই ফেরেনি প্রাণ। যে পা দুটো মুহূর্তে তাকে নিয়ে ছুটে যেত সে দুটো এখন তার শরীরের ভর টুকু নিতেই অক্ষমতা প্রকাশ করছে। অবারিত চোখের জলে হুইলচেয়ারের ভাগ্য মেনে নিয়ে চাকায় ভর করে নতুন ভাবে বেঁচে থাকতে চাইলেও সে আশাটুকুও আজও পূর্ণ হয়নি।একটি ভালো রাস্তার অভাবে ছলেমানের পুরো জীবনকে যেন আজন্ম জেলখানায় বন্দী করে রেখেছে।
অন্যের সহযোগিতায় ঘর থেকে বাড়ির উঠোন পর্যন্ত নামতে পারলেও উঁচুনিচু ও এবড়োখেবড়ো কাঁচা সড়কে হুইলচেয়ার নিয়ে চলাচল করা যায়না তাই কোথাও যেতেও পারেননা। এমনকি সামান্য বৃষ্টি হলেই কিংবা বৃষ্টির দিনগুলোতে বাড়ির উঠোনসহ রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে ঘরের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টা একপ্রকার বন্দী থাকতে হয় ছলেমানকে।
উপজেলা সদরের এক কিলোমিটারের মধ্যে বাস করেও একটি পাকা রাস্তা না থাকায় একপ্রকার বন্দী জীবন কাটানোর এই আক্ষেপ তার “জন্ম যেন আজন্ম পাপ” এ পরিণত করেছে।
কিলোমিটার দূরে যখন বিভিন্ন দিবসে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন সাজে হরেকরকম বাতিতে কিংবা উপজেলা প্রাঙ্গণে বসা মেলায় সকল ছেলে-বুড়ো আনন্দে মেতে ওঠে তখনও নিভু নিভু আলোতে বসে একজন ছলেমান তাঁর নিজের দুই পায়ের উপর দাঁড়ানোর চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হয়। আবারও তার দুচোখ ভরে পানি আসে।
একজন ছলেমানের সীমাহীন এই কষ্ট রাষ্ট্রের কাছে হয়ত ক্ষুদ্রতম থেকে ক্ষুদ্রতর। হয়ত গণনায়-ই আসে না। কিন্তু হুইলচেয়ার বন্দি মানুষটা জানে সে কিভাবে দিনাতিপাত করছে। রাষ্ট্রের প্রতি তার ভীষণ অভিযোগ। অধিকারের দাবী নিয়ে না হোক নিতান্তই করুণা করে কি একটা রাস্তার ব্যবস্থা রাষ্ট্র করতে পারে? দিতে পারে মুক্তি তাকে বন্দী জীবন থেকে?
