তাওসিফ আকবর: আজ রোববার (২ জুন) গণভবনে ‘আমার চোখে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক এক মিনিটের ভিডিও নির্মাণ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রতিযোগিতায় কলেজ বা তদুর্ধ্ব সেকশনে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী তিনজনের একজন ইন্দুরকানী সরকারি কলেজের ছাত্র আক্তারুজ্জামান গাজী মধু। এদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে তিনিও সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার গ্রহণ করেন।

ইন্দুরকানী সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্র আক্তারুজ্জামান গাজী মধু এই প্রতিযোগিতায় ইন্দুরকানী উপজেলা, পিরোজপুর জেলা এবং বরিশাল বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক / সমপর্যায় এবং তদুর্ধ্ব গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে তিনি তৃতীয় নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিজয়ীর পুরষ্কার গ্রহণ করেন। প্রতিযগিতার জন্য নির্মিত মধু’র ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি দেখুন নিচের লেখায় (ক্লিক করে)।
–
আমার চোখে বঙ্গবন্ধু
–
স্থানীয়রা বলছেন এ জাতীয় অর্জন ইন্দুরকানীর জন্য গর্বের ও সন্মানের। একই সাথে প্রতিযোগিতার অন্যতম বিজয়ী আক্তারুজ্জামান মধুও ইন্দুরকানীর গর্ব। তিনি নিজেকে ও ইন্দুরকানী কলেজকে এত বড় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

তবু এত আনন্দের মাঝেও দুঃখ আছে মধুর। সকল আনন্দ ছাপিয়ে সেই দুঃখ ফুটেও উঠেছে তাঁর কথায়। পিতৃহারা মধু’র পরিবারে উপার্জনক্ষম নেই কেউই। কোনোমতে দিন-যাপন হচ্ছে মা’কে নিয়ে তাদের দুজনের পরিবারের।
মধুর সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলায় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মধু। কে জানে, বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো সেটা হতেও পারতেন। তবে সেই স্বপ্ন তলানিতে এসে এখন ঠেকেছে দু-বেলা ঠিকমতো খাবারের ব্যবস্থাতে। অর্থাৎ, মধুর এখন স্বপ্ন তার মা’কে নিয়ে ভালোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা।

–
আমি মা’য়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পেরেছি তবে আমার বাবা এই চরম আনন্দের দিনটি দেখার সুযোগ পেলেন না এই আক্ষেপ আমার অনন্তকালের।
– আক্তারুজ্জামান মধু
২০১৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাওয়ার পরেও অর্থাভাবে ভালো কোন কলেজে ভর্তি হতে পারেনি সে। এমনকি বিজ্ঞান বিভাগ পরিবর্তন করে ভর্তি হতে হয় মানবিক বিভাগে। তবু স্বপ্ন পিছু ছাড়ে না, যেমন ছাড়েনা দারিদ্র্য। শেষমেষ দারিদ্র্যের জয় হয়, আর্থিক সমস্যার কারণে ভর্তি কোচিং আর বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পা রাখা; কোনোটাই হয়নি তার।

আক্ষেপের সুরে মধু জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নগুলো কেবলি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়, বাধার মুখে পড়ে। মধুর কিংবা তার পরিবারের একটা অর্থ উপার্জনের পথ দরকার। সকলের কাছে দোয়া চায় সে। একটু ভাল থাকতে চায় সে!
[ফিচার ইমেজ: ইয়াসিন কবির জয়/ফোকাস বাংলা]
