তাওসিফ এন আকবরঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।অঞ্চলটির ভৌগোলিক অবস্থান, বিশুদ্ধ পানির উৎসের অপ্রতুলতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টির অভাবকেই প্রধান কারণ হসেবে দেখছে ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য ইন্দুরকানী গ্রামের জনবহুল ও ব্যস্ততম এলাকা আউরাপুল নামক এলাকায় স্থানীয় বাসা-বাড়ি এবং দোকানপাটে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের প্রমাণ পাওয়া যায়।একটি বিশুদ্ধ পানির উৎসের অভাবে দূর-দূরান্ত থেকে পানি আনতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় এলাকাবাসীদের।কেউবা জলাশয়, খাল-বিল ও পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করেন।এছাড়াও দোকান-পাটে খালের পানিকে পানি পরিশোধনকারী ফটকিরি দিয়ে অথবা কখনো কখনো পরিশোধন না করেই পরিবেশন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বিক্রেতা অহিদুল ইসলাম জানান,আমাদের এইখানে বিশুদ্ধ পানির কোন উৎস নেই।বাসা-বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি আনা হলেও দোকানের জন্য সময়ের অভাবসহ বিভিন্ন কারনে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়না।অবশ্য আমরা ফিটকিরি দিয়ে পরিশোধন করে নিই তবে বছরের বিভিন্ন সময় খালের পানি অতিমাত্রায় লবণাক্ত হয়ে পরে তখন তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, আব্দুল জব্বার গাজী জানান,জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছরের এই সময়টাতে এখানকার খাল-বিলে জোয়ারে যে পরিমাণ পানি প্রবেশ করে ভাটার সময়টা জোয়ারের চেয়ে কম সময় ধরে স্থায়ী হওয়ার কারনে ঠিক সেই পরিমাণ পানি সমুদ্রে ফেরত যেতে পারেনা।ফলে স্থানীয় খাল-বিলের পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ (PH মাত্রা)সহনীয়তার মাত্রার চেয়েও বেশি হয়।
ইউপি সদস্য শাহাদাৎ ফকির জানান, এখানকার মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে। এই অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে হওয়ায় এখানে নলকূপ বসানো যায়না।সেক্ষেত্রে এখানে একটি খাবার পানি বিশুদ্ধকরন প্ল্যান্ট স্থাপন করা প্রয়োজন।
ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের দায়িত্বরত একজন চিকিৎসক জানান, খাল-বিল ও পুকুরের পানি না ফুটিয়ে পান করা অনুচিত।এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুকির সম্ভাবনা রয়েছে।এছাড়াও সহনীয়তার মাত্রার চেয়েও বেশি লবণাক্ত পানি দীর্ঘসময় ধরে পান করলে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ হতে পারে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু উপকূলের মানুষ কিছু ক্ষেত্রে এর ২০০ গুণ বেশি লবণ খায়। বেশি লবণ খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক রয়েছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি উপকূলের মানুষ কম লবণাক্ত পানি (যেমন বৃষ্টির পানি) পান করে, তাহলে তাদের রক্তচাপ কমিয়ে আনা সম্ভব।
ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মোঃ আল মুজাহিদ বলেন,স্থানীয় পানি সমস্যাটি সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।আমাদের প্রক্রিয়া চলমান,শীঘ্রই এর সুফল পাবে আউরাপুলসহ সমগ্র উপজেলাবাসী।
