ছাত্র জীবনে যে মানুষটি ছিলেন দক্ষ বিতার্কিক।সেই মানুষটি কর্ম জীবনে এসে হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।এখানেও তাঁর দক্ষতার ছাপ সুস্পষ্ট।একজন দক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে ইতোমধ্যে তিনি অর্জন করেছেন আইজিপি ব্যাচ।বলছি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হুমায়ুন কবিরের কথা।যিনি পারিবারিক ভাবে কবির নামেই বেশি পরিচিত।

তার শিক্ষা জীবনের শুরুটা হয়েছিল ভোলার দক্ষিণ চরনোয়াবদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।এরপরে ভোলা টাউন কমিটি হাই স্কুল (বাংলা স্কুল) থেকে ১৯৯৫ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন।১৯৯৭ সালে এসে আলতাজের রহমান ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ঢাকায় পাড়ি জমান হুমায়ুন কবির।এরপর ঢাকার জগন্মাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।
এরপরে কর্মজীবন শুরু করেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য হিসাবে।২০০৬ সালে তিনি উপ-পুলিশ পরিদর্শক হিসাবে যোগদান করেন।তারপর থেকে যোগ্যতার প্রমান রেখেছেন কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। পুলিশ পরির্দক (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন বেতাগী, তালতলী, বরগুনা সদর ও হিজলা থানায়।এরপরে পদোন্নতি পেয়ে ওসি (অফিসার ইন চার্জ) হিসেবে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানায় যোগদান করেন ২০২০ সালের ৩০ আগষ্ট।যেখানে তাঁর বর্তমান কর্মস্থল।

এখানে যোগদানের পর থেকে পুলিশকে সত্যিকারের জনবান্ধব করার জন্য নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।জনসাধারণের সাথে ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিনি সবার আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।এছাড়াও যে কোন অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে রেসপন্স করার মধ্য দিয়ে পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরাতেও সফল হয়েছেন তিনি।বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে জোরদার করার মধ্য দিয়ে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থির উন্নয়ন ঘটিয়েছেন ওসি হুমায়ুন কবির।
ইন্দুরকানী থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে অতিষ্ট হয়ে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।আবার অনেক মাদক কারবারিকে সুষ্ঠ জীবনে ফিরিয়ে আনতেও সক্ষম হয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তারা অনেকেই এখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।যে ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করেছেন জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাাম খান।

চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ব্যপক জনসচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে তার নেতৃত্বে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ ব্যপক ভূমিকা রেখে চলেছে। র্যালি,লিফলেট বিতরণ,মাস্ক বিতরণ,মাইকিং সভা ও টহল প্রদান কর্মসূচী যার মধ্যে অন্যতম।এছাড়াও তার সময়ে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের মাধ্যমে খুব সহজে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণেও তৎপর ইন্দুরকানী থানা পুলিশ।উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযোগ বাক্সগুলো স্থাপন করা হয়েছে।যা নিয়মিত মনিটরিং করেন ওসি হুমায়ুন কবির নিজেই।
অপর দিকে নারী শিশু বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের সাহায্য করার জন্য ইন্দুরকানী থানায় স্থাপন করা হয়েছে হেল্প ডেস্ক। ওসি হুমায়ুন কবির যার গতিশীলতা বাড়াতে সার্বক্ষনিক নজর রাখছেন।২০১১ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় কর্মরত অবস্থায় চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্রী সেজুতি আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন তিনি।তিনি ২০১৭ সালে বরগুনার বেতাগী থানার স্কুল শিক্ষিকা শিল্পী মৃধা গণধর্ষণ মামলাটিরও তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।২০১৮ সালে বেতাগী থানার আউয়াল হত্যা মামলার তদন্তকাজ দ্রুততা ও সফলতার সাথে সম্পন্ন করায় আইজিপি ব্যাচ প্রাপ্ত হন।

২০১৯ সালে চাঞ্চল্যকর বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলারও তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন হুমায়ুন কবির।তার বুদ্ধিমত্যার কারনে সকল অপরাধী আজ বিচারের কাঠগড়ায়।যার ফলাফল পুরো দেশবাসী অবগত।একই সালে কলেজ ছাত্র সোহেল খান হত্যা মামলারও তদন্তভার গ্রহণ করেন তিনি।সেখানেও সফল হন এ কর্মকর্তা।
সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রেখে ইন্দুরকানী উপজেলাকে একটি শান্তির জনপদে রুপান্তরে ওসি হুমায়ুন কবিরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একান্ত আলাপকালে ইন্দুরকানী থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান,জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল করতে চাই।এছাড়া আইন শৃঙ্খলা পরিস্থির উন্নতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রুপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে জনসাধারনের সহযোগিতায় চাই।আর সব সময় পুলিশি সেবা পৌঁছাতে চাই জাতি,ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের দোরগোড়ায়।
লেখা ও সম্পাদনা
এ.ই.এস & টি.এন.এ
