আসাদুজ্জামান মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি, বাগেরহাটঃ
সুন্দরবনের নদনদীতে লবনাক্ততা বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট , আবাসস্থল ধ্বংস সহ নানা কারনে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বন ছেড়ে অহরহ লোকালয় চলে আসছে। বন সংলগ্ন গ্রামগুলোতে প্রায়ই দেখা মিলছে এই সব বিষধর সাপের। শুধুমাত্র বন সংলগ্ন শরনখোলা উপজেলা থেকে গত এক বছরে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৪ টি সাপ উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানাগেছে।
সর্বশেষ গত ১৩ ডিসেম্বর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন জিলবুনিয়া গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বন সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ওয়াইল্ড লাইফ টীমের সদস্যরা। টীম লিডার আলম হাওলাদার জানান, বলেশ্বর নদীর তীরবতর্ী ওই গ্রামের কৃষকরা ধান কাটতে গিয়ে ধান ক্ষেতে প্রায় ১২ ফুট লম্বা অজগর সাপটি দেখতে পায়। গ্রামবাসীর কাছে খবর পেয়ে তারা সাপটি উদ্ধার করে । রাতেই সাপটি সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে অবমুক্ত করে দেয়া হয় । এ সময় ঐ সাপটির আক্রমনে ওমর (১৪)নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র আহত হয় ।
ওয়াইল্ড লাইফ টীম ও বন বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরে তারা এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৪ টি সাপ উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে ২৬ টি অজগর, ৩ টি দারাস, ২ টি সুতানাগ, ১ টি কিং কোবরা, ১টি গোখরা, ১টি মনোক্লেড কোবরা প্রজাতির সাপ।
বাংলাদেশের অন্যতম সাপ বিশেষজ্ঞ ও সাপ সুরক্ষায় নিবেদিত প্রাণ বোরহান বিশ্বাস রমন বলেন, সাপ শুধু সুন্দরবন নয়, প্রকৃতির জন্য খুবই গুরুত্ব পূর্ন । প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে সাপকে বাঁচিযে রাখতে হবে। তার মতে, সুন্দরবনের নদ নদীতে লবনাক্ততা বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট , আবাসস্থল ধ্বংস সহ নানা কারনে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বন ছেড়ে অহরহ লোকালয় চলে আসছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, টাইগার রেসপন্ডস প্রকল্পের মাধ্যমে বন সংলগ্ন এলাকার কিছু যুবককে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে । যারা ওয়াইল্ড লাইফ টীমের সদস্য হিসাবে খবর পেলেই গ্রামে ছুটে গিয়ে সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের হাতে তুলে দিচ্ছে। সাপগুলো রক্ষা পাচ্ছে। তিনি উৎসাহী এসব যুবকদের সরকারি ভাবে উন্নত প্রশিক্ষনের দাবি জানান।
বন সংলগ্ন গ্রামবাসীর সাথে আলাপ করে জানাগেছে, বন থেকে বিশালাকার এসব সাপ লোকালয়ে এসে হঁাস মুরগীর খোপ, খড়ের গাদা ও ফসলের মাঠে লুকিয়ে থাকছে । ফলে এ গ্রামগুলোর মানুষ বিশেষ করে শিশুরা সাপ নিয়ে আতঙ্কে ভূগছে।
