ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও পরিচালক পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ড. আশরাফ আলী। তিনি ১৯৪০ সালের পহেলা জানুয়ারি উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের কলারণ গ্রামের স্থানীয় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক সূত্রমতে, তিনি ইন্দুরকানী অঞ্চলের প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী। এছাড়াও তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকায় বসবাসকারী ইন্দুরকানীর নাগরিকদের সামাজিক সংগঠন ঢাকাস্থ “ইন্দুরকানী সমিতি” এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনটির সদস্যদের এবং ইন্দুরকানী থেকে বিভিন্ন কাজে ঢাকায় আসা ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল ছিলেন তিনি।
কলারণের আবুল কাশেম-জামিলা খাতুন দম্পতির সাত (পাঁচ ভাই ও দুই বোন) সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। ড. আশরাফ আলী’র শিক্ষাজীবনে হাতেখড়ি স্থানীয় কলারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে পড়েছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপরে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়েছেন পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলার সন্যাসী হাই স্কুলে। সপ্তম থেকে পিরোজপুর সরকারি হাই স্কুল এবং এখান থেকেই ম্যাট্রিকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন (১৯৫৬ সালে)। পরবর্তীতে ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তি হন তিনি । উচ্চ মাধ্যমিকেও প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন ড. আশরাফ আলী (১৯৫৮ সালে)।
এরপরে মেধাভিত্তিক শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশ লেবাননের রাজধানীতে অবস্থিত “আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত” এ যান উচ্চশিক্ষার জন্য। সেখান থেকে (১৯৬১) বি.এ অনার্স এবং ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন তিনি। ড. আশরাফ আলী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন কলোরাডোর; “কলোরাডো স্টেট কলেজ” (বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন কলোরাডো) থেকে (১৯৬৫)। এছাড়াও একই প্রতিষ্ঠান থেকে ডক্টর অব এডুকেশন বা ডক্টরেট ডিগ্রি-ও অর্জন (১৯৬৯) করেন।
কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আই.ই.আর) এর সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন ১৯৬৭ সালে। এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। এরপরে ম্যানেজমেন্ট ডেভলপমেন্ট সেন্টার, ঢাকা এর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করেন ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে তিনি আবারও ফিরে আসেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে (১৯৭৬-১৯৮৭)। এরপরে ১৯৮৮-২০০২ সাল পর্যন্ত এখানেই অধ্যাপনা করেছেন প্রফেসর (Prof. of Education) হিসেবে। এরপরে ২০০২ সালের আগষ্টে তিনি নিয়োগ পান পরিচালক হিসেবে। তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা তথা আই.ই.আর -এর ১৬ তম পরিচালক এবং এই পদে তিনি আসীন ছিলেন ২০০৫ এর মে পর্যন্ত।
তিনি ১৯৬৯ সাল থেকে দেশের জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে নিয়মিত শিক্ষাবিষয়ক নিবন্ধ লিখতেন। বিশেষ করে লিখতেন ইংরেজি দৈনিক “ডেইলি স্টার” -এ। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন রিসার্চ প্রজেক্টে সদস্য এবং কিছুক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। শিক্ষা, প্রশাসন ও শিক্ষা গবেষণার উপর বেশ কয়েকটি পুস্তকও রচনা করেন তিনি। বি.এড এবং এম.এড কোর্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও লিখেছেন শিক্ষামূলক বিভিন্ন বই।এই বিষয়ে আরও জানতে চাইলে, ঢাকাস্থ ইন্দুরকানী সমিতির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও সদস্যগণ জানিয়েছেন, ইন্দুরকানী জনপদের কৃতি ব্যক্তিত্ব ও প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী এই গুণী মানুষটি আমাদের গর্ব।
তার পরিবারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি (ড. আশরাফ আলী) বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তার আশু আরোগ্যলাভের জন্য ইন্দুরকানীবাসীর নিকট আমরা দোয়া প্রার্থী। [ ইংরেজি দৈনিক “ডেইলি স্টারে” প্রকাশিত তার কিছু লেখার আর্কাইভ লিংক নিম্নে দেয়া হলোঃ ]http://archive.thedailystar.net/2004/01/16/d40116150190.htmhttps://www.thedailystar.net/news/university-education-in-a-developing-countryhttp://archive.thedailystar.net/2006/05/16/d60516020533.htmhttps://www.thedailystar.net/news-detail-168887https://www.thedailystar.net/news-detail-94718ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই.ই.আর -এর ওয়েবসাইটে পরিচালকগণের নামের তালিকাঃhttps://old.du.ac.bd/academic/department_item/IER
