গেল বছরটি করোনার বদান্যতায় বিশ্বজুড়ে শুধু আতঙ্ক আর ভয়েই কেটেছে। এ ভয় মৃত্যুর, এ ভয় প্রিয়জনকে হারানোর। ৮ মার্চ যখন এ দেশেই প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা হলো, মানুষের সে সময়টার আতঙ্কের সঙ্গে শুধু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালের আতঙ্কেরই তুলনা চলে। কিন্তু বছর শেষে বরিশাল বিভাগে করোনায় মৃত্যুকে পেছনে ফেলে দিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান। আর তাতে সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করা লোকজনকে নড়েচড়ে বসতেই হচ্ছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের করা ২০২০ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ৬ জানুয়ারি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে নিসচা। এতে সড়ক দুর্ঘটনারোধে নানা সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।
নিসচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাব, টাস্কফোর্স প্রদত্ত ১১১টি সুপারিশনামা বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, দৈনিক চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালনা, লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ওভারটেকিং, বিরতি ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো বন্ধে আইনের প্রয়োগ না থাকা, সড়ক ও মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার গাড়ি বাড়ানো, মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, একই রাস্তায় বৈধ ও অবৈধ এবং দ্রুত ও শ্লথ যানবাহন চলাচল, রাস্তার পাশে হাটবাজার ও দোকানপাট এবং অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮ বাস্তবায়ন না হওয়া এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিসচার প্রতিবেদন অনুযায়ী,পিরোজপুরে ২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও আহত হন ৯ জন ।সংগঠনের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সালে পিরোজপুরে ৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও আহত হয়েছিলেন ৮৬ জন।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয় মহাসচিব সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল বলেন, সংখ্যাগত দিক থেকে গেল বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা গত দুই বছরের তুলনায় তুলনামূলক কম হয়েছে, এটা ঠিক। তবে এটাকে কম বলা যায় না। কারণ, ২০২০ সালটি করোনা মহামারির বছর ছিল। জরুরি যানবাহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। যে কারণে সড়ক দুর্ঘটনা আরও কম হওয়ার কথাই ছিল। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছরের এপ্রিল ও মে—এই দুই মাস ছাড়া অন্য মাসগুলোয় সড়ক দুর্ঘটনা বিগত বছরগুলোর মতোই হয়েছে।
কৃতজ্ঞতাঃ
প্রথম আলো
